শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৮:১১ পূর্বাহ্ন
৭১সংবাদ২৪.কম- ডেস্ক.
রংপুরের তারাগঞ্জে সপ্তাহব্যাপী শৈত্যপ্রবাহ, স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। ঘন কুয়াশার মাঝে হিম বাতাসের দাপটে হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে মারাত্মকভাবে ভাবে। চলমান শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। জীবিকার তাগিতে চরম দুর্ভোগ বেড়েছে দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালকসহ শ্রমজীবী মানুষের জীবন।
সকালের শুরুতেই ঘন কুয়াশা থাকে দুপুর পর্যন্ত, কোন কোন দিন দেখা মেলে না সূর্যের। অপরদিকে দিন ভর থাকে ঝিরঝির বাতাস, আলোহীন বিকেলে নেমে আসে আগাম সন্ধ্যা। এতে স্থানীয়, হাট বাজার ও লোকালয় গুলোতে কমতে থাকে মানুষের সমাগম। প্রচণ্ড শীত আর কুয়াশার সুযোগে বেড়েছে চোরের উপদ্রপ।
জানা গেছে, গত রোববার (২৮ ডিসেম্বর) উপজেলার নতুন চৌপথি মোড়স্থ হাজেড়া মার্কেটে ঘটেছে এক রাতে পাঁচটি দোকানে চুরির ঘটনা, এতে ব্যবসায়ীদের বেড়েছে আতঙ্ক। মার্কেটের দোকান মালিক সূত্রে জানা গেছে ওই চুরির ঘটনায় দোকান মালিকরা মোবাইল চুরি যাওয়াসহ প্রায় নগদ ৩ লক্ষাধিক টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন।
সাইকেল ব্যবসায়ী মোস্তাফিজার রহমান বলেন, এই শীতে যেভাবে চুরি বেড়েছে তাতে আমরা বাসায় গিয়ে স্বস্তিতে থাকতে পারি না। চিন্তায় থাকি কুয়াশা আর ঠান্ডায় দোকান যে অবস্থা আছে। আইনশৃঙ্খলা উন্নত হওয়া দরকার, আমরা কি তাহলে দোকানেই থেকে যাবো!
হাজেড়া মার্কেটের সানমুন টেলিকমের স্বত্ত্বাধিকারী মুন ইসলাম বলেন, আমাদের মার্কেট চুরি হওয়া কঠিন- প্রথম চুরির ঘটনা ঘটলো। চারদিকে সিসি ক্যামেরা, জনসমাগম এলাকায় (নতুন চৌপথি বাস স্ট্যাণ্ড)। এই চুরির ঘটনায় আমার খুবই আতঙ্কে আছি। আইনশৃঙ্খলার উন্নত হওয়া দরকার, আমাদের তারাগঞ্জ তো এমন ছিলনা। শান্তিপ্রিয় এই উপজেলা আজ অশান্ত, উপজেলার চারদিকে খুন হত্যা সহ নানা মূখী অপরাধ হচ্ছে।
অপরদিকে শৈত্যপ্রবাহ এবং কুয়াশার কারণে মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল হয়ে উঠেছে ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা। কনকনে শীতের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি আঘাত হেনেছে শ্রমজীবী মানুষের ওপর। শীতের চাপে ভোরবেলায় কাজে বের হওয়া কষ্টসাধ্য এই জনবল পরেছে বিপাকে। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে কাঁপতে কাঁপতে দিন পার করছে অনেকেই। দৈনিক আয় কমে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে নতুন করে দুশ্চিন্তা বেড়েছে দিনমজুর শ্রেণিপেশার মানুষ।
নিম্ন আয়ের মানুষগুলো তারাগঞ্জ বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় পুরনো সোয়েটার, চাদর ও কম্বলের দোকান গুলোতে ছুটছেন শীত নিবারনে কাপড় কিনতে। এসব কাপড় কিনতে পিছিয়ে নেই মধ্যবিত্ত শ্রেণির সাধারণ মানুষও। তারাগঞ্জ বাজারে গরম কাপড় কিনতে আসা দিনমজুর মতিউর রহমান ও তার স্ত্রী পারভীনা বেগম বলেন, ছেলে-মেয়ে আর বাড়ির বৃদ্ধ বাবা-মায়ের জন্য গরম কাপড় কিনতে এসেছিলাম। বাচ্চার কাপড় কিনেই ফিরে যাচ্ছি। দাম বেশি তাই আর কেনা সম্ভব হচ্ছে না।
তারাগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রুহুল আমিন বলেন, এই শীতে চুরি সহ যেকোন অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। এর মধ্যে উপজেলার নতুন চৌপথি মোড়ের হাজেড়া মার্কেটে চুরির ঘটনায় অনুসন্ধান চলছে। এ ঘটনায় আমরা বাজার এলাকাসহ উপজেলা জুড়ে টহল বাড়িয়েছি। আইনশৃঙ্খলা জোড়দার করতে বিশেষ ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোনাব্বর হোসনে বলেন, উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে গরীব দুস্থ, এতিমখানা, আশ্রয়নপ্রকল্প সহ ছিন্নমূল মানুষের মাঝে সরকারি ভাবে শীতবস্ত্র কম্বল বিতরণ করেছি। এখন পর্যন্ত ষোল শত কম্বল দেয়া হয়েছে, যাতে আরো দেওয়া যায় সে ব্যবস্থা চলমান আছে। সেই সাথে চলমান শীতে উপজেলার বিত্তবান, সেবামুলক সংগঠন, সুধী মহলকে দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ করছি।